তরকারীতে ঝাল কমানোর গোপন টিপস

তরকারিতে ঝাল কমানোর উপায় বা পদ্ধতি

 

আমরা বাঙালি বেশিরভাগ সময় ভাত এবং তরকারি খেয়ে থাকি । আমরা ভাত তরকারি খেতে বেশি পছন্দ করি । আমাদের তিন বেলা খাবারের মধ্যে দুই বেলা ভাত তরকারি খেয়ে থাকি । তাই এই তরকারি যদি স্বাদমতো না হয় তাহলে খাওয়া যায় না ।


তরকারি আমরা সব সময় সুস্বাদু করে রান্না করার চেষ্টা করি । কিন্তু অনেক সময় ঝাল লবণ কম বা বেশি হয়ে যায় । কম হয়ে গেলে কোন সমস্যা নেই, আবার একটু ঝাল বা লবণ দিয়ে ঠিক করা যায় । কিন্তু বেশি হলে খাওয়া যায় না । তাই বেশি হলে কি করব তা নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করব ।

পেজ সূচিপত্র ঃ তরকারিতে ঝাল কমানোর উপায় নিয়ে আজ আমরা যে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তা হল

আমরা তরকারিতে বিভিন্ন মসলা খেয়ে থাকি । যেমন ঝাল, লবণ, টক ইত্যাদি । আমাদের শরীরে প্রতিটা জিনিসেরই প্রয়োজন রয়েছে । প্রতিটি মসলার প্রয়োজন রয়েছে ।  কিন্তু সবকিছুই পরিমাণ মতো খেতে হবে । কম খাওয়া ভালো তো বেশি খাওয়া ভালো না । কারণ বেশি খেলে আমাদের শরীরে নানা প্রকারের রোগ বাসা বাঁধবে । 

ঠিক তেমনিভাবে ঝাল বেশি খাওয়া অনেক ক্ষতি । তাই আমরা ঝাল সীমিত পরিমাণে খাব । যে পরিমান খেলে কোন প্রকার ক্ষতি হবে না, সেই পরিমান খেতে হবে । ঝাল বেশি খেলে অনেক রকমের সমস্যা হয়, যেমন আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ইত্যাদি ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে । তাই রোগবালাই থেকে দূরে থাকতে আমরা ঝাল কম খাওয়ার চেষ্টা করব । 

লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন 

তরকারিতে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী বা আমাদের স্বাদমতো ঝাল খেয়ে থাকি । এই ঝাল কম হলেও খাওয়া যায় না, আবার বেশি খাওয়া ভালো নয় । বেশি খেলে বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই বা সমস্যা হয়ে থাকে । তাই তরকারিতে ঝাল বেশি হলে,  আমরা সেখানে লেবুর রস ব্যবহার করতে পারি । কারণ লেবুর রস টক, আর টক ঝাল কমাতে সাহায্য করে ।

লেবু মানে হল কাগজি লেবু । অর্থাৎ যে লেবু আমরা ভাত বা শরবতে খেয়ে থাকি, সেই লেবু । লেবুর রস  চিপে বের করে আমরা তরকারিতে ব্যবহার করতে পারি । এই কাজটি লেবুর রস যদি আমরা তরকারিতে ব্যবহার করি, তাহলে তরকারি ঝাল কমে যাবে এবং খেতে ভালো লাগবে । তাই যদি কখনো হঠাৎ করে তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে যায় তবে আমরা লেবু ব্যবহার করতে পারি । 

টক দই ব্যবহার করতে পারেন 

তরকারিতে ঝাল কমানোর যে সকল উপায় রয়েছে,  তার মধ্যে একটি হচ্ছে টক দই ব্যবহার করা । টক দই খুবই প্রয়োজনীয় একটি খাবার । এই টক দই এমনি খেলে শরীরের ওজন কমে । বিভিন্ন সমস্যার কারণে ডাক্তাররা টক দই খেতে বলে । এমনিতেও টক দই আমরা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করে থাকি । তাই ঝাল কমানোর জন্য আমি রান্নায় টক দই ব্যবহার করতে পারি । 


তাই ঝাল কমানোর জন্য আমরা যেগুলো ভুনা জাতীয় খাবার,  অর্থাৎ ঝোল থাকে না, এমন জাতীয় তরকারিতে টক দই ব্যবহার করতে পারেন । সেক্ষেত্রে দেখবেন ঝাল অনেকটাই কমে এসেছে । তাই ভুনা জাতীয় তরকারিতে ঝাল কমানোর জন্য আপনি টক দই ব্যবহার করতে পারেন । এতে ঝাল কমে যাবে এবং তরকারির স্বাদও বেড়ে যাবে ।  

আলু বা টমেটো ব্যবহার করতে পারেন

তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে যাওয়ার ফলে, ঝাল কমানোর জন্য যে সকল পদ্ধতি রয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে আলু বা টমেটো ব্যবহার করা । ঝোল জাতীয় তরকারিতে যখন ঝাল বেশি হয়ে যায়, তখন সেই তরকারির মধ্যে যদি আলু বা টমেটো কেটে দেন, তাহলে দেখবেন ঝাল অনেকটাই কমে গেছে । তাই ঝাল কমানোর জন্য আপনি এই পদ্ধতিটা ব্যবহার করতে পারেন । 

অনেক এমন তরকারি রয়েছে যেখানে আপনি পাকা টমেটো কেটে দিতে পারেন । আবার এমন অনেক তরকারি রয়েছে যেটাতে আপনি টমেটোর ক্যাচাপ যেটা পাওয়া যায়, সেটাও ব্যবহার করতে পারেন । সেক্ষেত্রেও ঝাল অনেকটাই কমে যাবে এবং স্বাদ বেড়ে যাবে । তাই ঝাল কমানোর জন্য আপনি এই পদ্ধতিটা ব্যবহার করতে পারেন । 

দুধ ব্যবহার করতে পারেন 

এমন অনেক তরকারি রয়েছে যেগুলোতে আমরা দুধ ব্যবহার করে থাকি । দুধ আমরা পুষ্টির জন্য এমনি খায় ।  আবার দুধের সঙ্গে অনেক কিছু মিশিয়ে খায় ।  যেমন খেজুর, মধু, বাদাম ইত্যাদি মিশেও খায় ।যাই হোক দুধ আমরা বিভিন্নভাবে খেয়ে থাকি । আবার এই দুধ তরকারিতে ঝাল কমানোর জন্য ব্যবহার করা যায় । 

এমন অনেক খাবার রয়েছে, যেমন বিরিয়ানি,  রোস্ট, পোলাও ইত্যাদি খাবারে আমরা দুধ ব্যবহার করে থাকি । কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে যদি ঝাল বেশি হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে আমরা দুধ ব্যবহার করতে পারি । কারণ দুধ মিষ্টি জাতীয় খাবার । তাই তরকারিতে দুধ ব্যবহার করলে ঝালের পরিমাণ কমে আসবে এবং খেতেও সুস্বাদু লাগবে । কারণ দুধ একটি পুষ্টিকর খাবার । 

লবণ ব্যবহার করতে পারেন

লবণ এমন একটি খাবার যা বেশি হলেও খাওয়া যায় না, আবার কম হলেও খাওয়া যায় না । ঠিক ঝালের মত একটি খাবার । তাই অনেক সময় তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে গেলে, আপনি কিছুটা পরিমাণ লবণ দিতে পারেন । এক্ষেত্রে ঝাল একটু কম লাগবে । কারণ ঝাল এবং লবণের একটা কম্বিনেশন রয়েছে ।
 

অনেক ক্ষেত্রেই এরকম হয়ে থাকে যে, তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে গেছে সেক্ষেত্রে আপনি যদি একটু লবণ ব্যবহার করেন, তাহলে দেখবেন ঝাল কমে গেছে । লবণও ঠিক ঝালের মত কম পরিমাণে খেতে হয় । বেশি খেলে অনেক ধরনের সমস্যা বা রোগ বালাই হতে পারে । তাই শরীর সুস্থ রাখতে ঝাল এবং লবণ আমরা পরিমাণমতো খাব । 

ঘি, মাখন বা চিনি ব্যবহার 

তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে গেলে আপনি ঘি বা মাখন ব্যবহার করতে পারেন । ঘি মাখন এগুলো হচ্ছে দুধের তৈরি । তাই এগুলোর স্বাদ মিষ্টি না হলেও, দেখা যাচ্ছে খানিকটা মিষ্টির মতো । তাই যদি তরকারিতে ঘি বা মাখন ব্যবহার করেন, তাহলে দেখবেন ঝালের পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে । 

ঝাল এবং মিষ্টি এই দুটা হচ্ছে বিপরীত স্বাদের খাবার । তাই ঝালে যখন চিনি ব্যবহার করবেন তখন দেখবেন ঝাল অনেকটাই কমে গেছে বা নেই বললেই চলে । তাই যখন দেখবেন তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে গেছে তখন আপনি চিনি, ঘি বা মাখন আপনার যেটা ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারেন । তাই আপনি আপনার স্বাদমত জিনিস ব্যবহার করতে পারেন । 

পানি ব্যবহার করতে পারেন 

এমন অনেক তরকারি রয়েছে যেগুলোতে আপনি ঝাল কমানোর জন্য পানি ব্যবহার করতে পারেন ।  এমন অনেক তরকারি রয়েছে যেগুলো হয়তো শুকনো বা কোন ঝোল নেই, সেক্ষেত্রে ঝাল বেশি হয়ে গেছে সে তরকারিতে আপনি যদি পানি যোগ করে দেন তাহলে দেখবেন ঝাল অনেকটাই কমে গেছে । 

আবার অনেক খাবার রয়েছে, যেগুলো দেখা যাচ্ছে আপনি মেরিনেট করে রেখেছেন সেগুলো আপনার মনে হচ্ছে যে ঝাল বেশি হয়ে গেছে, সেখানে আপনি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন । তাহলে দেখবেন ঝাল অনেকটাই কমে গেছে । তাই এ ধরনের ঝাল কমানোর জন্য আপনি পানি ব্যবহার করতে পারেন ।

ঝাল কি সবাই খেতে পারে ?

ঝাল এমন একটি খাবার যেটি সবাই খেতে পারে । কিন্তু সবার খাওয়া উচিত নয় । যেমন, ছোট বাচ্চারা তাদের ঝাল দেওয়া উচিত নয় বা তারা ঝাল খেতে পারে না । কারণ তাদের দুধ খাওয়া মুখ । আবার দেখা যাচ্ছে যাদের একটু বয়স বেশি তাদের ঝাল কম খাওয়াই ভালো । কারণ দেখা যাচ্ছে ঝাল খেলে পেটের সমস্যা হয় বা অনেক রকমের সমস্যা হয়ে থাকে ।


আবার অনেকের অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে, যে সমস্যার কারণে ঝাল খেলে সমস্যা আরো বেড়ে যায় । সেক্ষেত্রে আপনাকে পরিমাণমতো তরকারিতে ঝাল খেতে হবে । ঝাল কম খেলে আপনার শরীর ভালো থাকবে, সুস্থ থাকবে । তাই ছোট বাচ্চা, বৃদ্ধ মানুষ এবং অসুস্থ মানুষকে ঝাল খুবই কম খেতে দিতে হবে । অসুস্থ রোগীকে ডাক্তারও ঝাল খেতে নিষেধ করে । 

কিছু ঝাল রেসিপি

কিছু কিছু এমন রেসিপি বা খাবার রয়েছে যেগুলো আপনাকে ঝাল করে খেতে হবে বা কম ঝাল হলে খেতে ভালো লাগবে না । তাই খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য ঝাল একটু বেশি খেয়ে থাকে । যেমন ফুচকা, চটপটি, মাংসের তরকারি, এগুলোতে একটু ঝাল বেশি খেতে ভালো লাগে । তবে চেষ্টা করতে হবে যাতে একটা পরিমাণ এর মধ্যে খাওয়া যায় । 

কারণ ঝাল বেশি খেলে দেখা যাচ্ছে অন্য সমস্যা আবার দেখা দিতে পারে । বিশেষ করে ঝাল বেশি খেলে পেটের সমস্যা দেখা দেয় । অনেকের পেট খারাপ হয়ে যায় । তাই দেখা যাচ্ছে ঝাল খেলেও একটা পরিমাণের মধ্যে খেতে হবে । এতে করে আমাদেরই শরীর সুস্থ থাকবে । তাই যা করলে বা যা খেলে শরীর সুস্থ থাকবে আমাদেরকে সেভাবেই নিয়ম মেনে চলতে হবে । 

শেষ কথা

তাই পরিশেষে বলতে পারি, ঝাল খেলে অনেক ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে বা অনেকের অনেক রকমের অসুখ শরীরে বাসা বাঁধে । তাই আবার বলছি,  ঝাল পরিমান মত খেতে হবে । আর যদি তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আপনি উপরোক্ত পদ্ধতি গুলো ব্যবহার করতে পারেন । এতে করে দেখবেন আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে । 

আমার যতটুকু জানা আছে বা আমার যতটুকু অভিজ্ঞতা রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আমি আর্টিকেলটা লেখার চেষ্টা করেছি । আর্টিকেলটা কেমন হয়েছে কমেন্টে জানাবেন । সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন । সবাইকে অনেক ধন্যবাদ । 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url