কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয় জেনে নিন

কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয় তার কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করব বা লিখব। আর্টিকেল দুইভাবে বা দুই ভাষায় লেখা যায়। একটি বাংলায় আরেকটি ইংলিশে। তো আমরা চাইলে দুই ভাষাতেই আর্টিকেল লিখতে পারি।

আর্টিকেল লেখার নির্দিষ্ট একটি নিয়মকানুন রয়েছে। স্টেপ বাই স্টেপ বা ধাপে ধাপে সেই নিয়ম অনুযায়ী আর্টিকেল লিখতে হয় বা লিখব। সকল নিয়ম কানুন মেনে ঠিকঠাক ভাবে আর্টিকেল লিখলে তবেই আপনার আর্টিকেল একটি নির্দিষ্ট জায়গা পাবে। 

পেজ সূচিপত্র ঃ বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়মকানুন নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করব

কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয় 

কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয় তা জানাটা খুবই জরুরী, যদি আপনি আর্টিকেল লিখতে চান। আর্টিকেল লেখার কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে, সেই নিয়ম অনুযায়ী আমরা লেখার চেষ্টা করব। আর্টিকেল অবশ্যই সহজ এবং সাবলীল ভাষায় লিখতে হয়। যাতে করে পাঠক আপনার আর্টিকেলের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং আপনার আর্টিকেল পড়ে তারা সবকিছু সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারে। 

আর্টিকেল এমনভাবে লেখা উচিত যাতে করে পাঠক আপনার আর্টিকেলের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং পরবর্তীতে আপনার আর্টিকেল পড়তে চাই। আর্টিকেল লেখার আগে অবশ্যই সে সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা থাকা উচিত এবং আর্টিকেলটি যেন তথ্যপূর্ণ হয়। তবেই আর্টিকেল পড়ে পাঠক উপকারিতা পাবে এবং পরবর্তীতে আপনার আর্টিকেলগুলো পড়বে। 

ফোকাস কিওয়ার্ড নির্বাচন 

মানুষ গুগোলে যা লিখে সার্চ দেয় তাকে ফোকাস কিওয়ার্ড বলে। প্রতিটি আর্টিকেল লেখার জন্য প্রথমে একটি ফোকাস কিওয়ার্ড নির্বাচন করতে হয়। অর্থাৎ আপনি যে বিষয়টির উপরে  লিখবেন সে বিষয়টা নির্বাচন করতে হবে। ফোকাস কিওয়ার্ড অবশ্যই ভালো হতে হবে। অর্থাৎ মানুষ সচরাচর যে সকল বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাই সে বিষয় নির্বাচন করতে হবে। 

আপনি যত ভালো বিষয় সম্পর্কে আর্টিকেল লিখবেন মানুষ তত আপনার আর্টিকেল পড়বে। অর্থাৎ মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আপনি যদি আর্টিকেল লিখেন, তাহলে আপনার আর্টিকেল পাঠক পড়বে এবং উপকারিতা পাবে। আর এই আর্টিকেল গুগোলে একটা ভালো জায়গায় র‍্যাঙ্ক করবে। কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয় তার একটি নিয়ম হচ্ছে প্রথমে ফোকাস কি অর নির্বাচন করতে হবে।

টাইটেল বা শিরোনাম  লিখতে হয় 

প্রতিটি আর্টিকেলের প্রথমে টাইটেল বা শিরোনাম নামক একটি ঘর থাকে। সেখানে আপনাকে টাইটেল লিখতে হবে। অর্থাৎ টাইটেলের জায়গায় ফোকাস কিওয়ার্ড বসাতে হবে। শিরোনাম বলতে বোঝায় একটি আর্টিকেলের সারাংশ। অর্থাৎ একলাইন পড়েই পুরা আর্টিকেল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, যে আসলে কোন বিষয়ে আর্টিকেল লিখা হয়েছে। টাইটেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনার টাইটেল অবশ্যই লোভনীয় হতে হবে। অর্থাৎ টাইটেল পড়েই যেন পাঠকরা আপনার আর্টিকেলের প্রতি আকৃষ্ট হয়। 


তাই প্রতিটি আর্টিকেলের একটি টাইটেল থাকে বা শিরোনাম থাকে। অর্থাৎ শিরোনাম পড়ে পাঠকরা যাতে আর্টিকেল সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে। তাই একটি সফল আর্টিকেল এর একটি টাইটেল বা শিরোনাম দিতে হয়, যাতে করে আর্টিকেল সম্পর্কে জানা যায় এবং বুঝা যায় যে কি সম্পর্কে আর্টিকেল লিখা হয়েছে। টাইটেল যত লোভনীয় হবে পাঠক সংখ্যা তত বৃদ্ধি পাবে। 

বাটন তৈরি করা 

প্রতিটি আর্টিকেলের শিরোনামের পরেই একটি বাটন থাকে। অর্থাৎ প্রায় প্রতিটি আর্টিকেলে বাটন ব্যবহার করা হয়। এই বাটন এর মধ্যে আর্টিকেল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু কথা লিখে থাকে, যা দেখে আর্টিকেল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি আর্টিকেল লিখেন, তাহলে অবশ্যই একটি বাটন তৈরি করবেন। 

সবাই তার আর্টিকেলে বাটন ব্যবহার করে না, তবে প্রায় প্রতিটি আর্টিকেলেই একটি করে বাটন তৈরি করা হয়। যেগুলো নিউজ পেপার এর আর্টিকেল রয়েছে, সেগুলোতে সাধারণত বাটন ব্যবহার করা হয় না। তবে যেগুলো সাধারণ ওয়েবসাইট রয়েছে, তাদের প্রায় প্রতিটি আর্টিকেলে বাটন ব্যবহার করা হয়। বাটন দেখতে ভালো লাগে আবার দরকারি। 

পেজ সূচিপত্র তৈরি করা 

প্রতিটি আর্টিকেলে একটি পেজ সূচিপত্র তৈরি করা হয়। যেখানে পুরো আর্টিকেলের একটি লিস্ট বা তালিকা রয়েছে। অর্থাৎ কোন কোন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে, তার একটি তালিকা থাকে।  আর তার নামই হচ্ছে পেজ সূচিপত্র। পেজ সূচিপত্র দেখে পুরো আর্টিকেলে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তার সম্পর্কে জানা যায়। 

পেজ সূচিপত্রের প্রথমে ফোকাস কিওয়ার্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়। তারপর ফোকাস কিওয়ার্ড এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। ঠিক যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তার একটি সুন্দর তালিকা তৈরি করা হয় পেজ সূচি পত্রের মাধ্যমে। তাই প্রতিটি আর্টিকেলে পেজ সূচিপত্র ব্যবহার করা হয় যাতে করে আর্টিকেল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 

নাম্বার বা বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করা

আর্টিকেলে যখন পেজ সূচিপত্র তৈরি করা হয়, সেই সূচিপত্রে ব্যাখ্যাগুলোতে নাম্বার বা বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করতে হয়। এতে করে দেখতে ভালো লাগে। অর্থাৎ লেখাগুলো সুন্দরভাবে নাম্বার আকারে তৈরি করা হয়। এতে দেখতেও সুন্দর লাগে, আবার নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়। তাই টাইপের সময় অবশ্যই পেজ সূচিপত্রে নাম্বার বা বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করতে হবে। 

এছাড়াও আপনি চাইলে আর্টিকেলের মধ্যে যখন বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাখ্যা আকারে লিখবেন তখনও নাম্বার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী নাম্বার বা বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারেন। কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয় তার একটি নিয়ম হচ্ছে এখানে নাম্বার বা বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করতে হবে। 

লিখার সময় চলিত ভাষা ব্যবহার করা 

লেখার সময় অর্থাৎ আর্টিকেল লেখার সময় অবশ্যই লেখাগুলো চলিত ভাষায় লিখতে হবে। অর্থাৎ সাধু ভাষা বা অন্য কোন ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। মানুষ সহজে বুঝতে পারে বা পড়তে পারে এরকম সহজ এবং সাবলীল ভাষায় আর্টিকেল লিখতে হবে। কারন সাধু ভাষা সবাই বুঝতে পারে না। যাতে করে পাঠক সহজেই আপনার লেখা বুঝতে পারে। কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয় তার একটি নিয়ম হচ্ছে এখানে অবশ্যই চলিত ভাষা ব্যবহার করতে হবে। 


তাই একটি আর্টিকেল লেখার নিয়ম হচ্ছে আর্টিকেলে চলিত ভাষা ব্যবহার করা। চলিত ভাষা সব থেকে সহজ ভাষা। যেটা যে কেউ সহজেই পড়তে পারে। তাই আপনি সবসময় চেষ্টা করবেন আর্টিকেল চলিত ভাষায় লেখার। যাতে করে আপনার আর্টিকেল সহজেই ভালো জায়গায় পৌঁছাতে পারে এবং পাঠকরা পড়ে উপকৃত হতে পারেন। 

লিখাগুলো জাস্টিফায় আকারে লিখতে হবে

আর্টিকেলের মধ্যে যে বিষয়গুলো লিখবেন সেগুলো অবশ্যই জাস্টিফায় আকারে লিখতে হবে। অর্থাৎ লিখাগুলো দুই পাশ সমান হবে। এতে করে দেখতে অনেক সুন্দর লাগে, আর পাঠকরা অনেক আকৃষ্ট হয়। আর্টিকেল লেখার সময় সবসময় মাথায় রাখতে হবে আর্টিকেলটা দেখতে যেন অনেক সুন্দর হয় এবং তথ্যপূর্ণ হয়। যাতে পাঠকরা আকৃষ্ট হয়। 

আর্টিকেল দেখতে যতটা সুন্দর হবে এবং তথ্যপূর্ণ হবে পাঠকরা আর্টিকেলের উপর ততটা আকৃষ্ট হবে।কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয়, তার একটা নিয়ম হচ্ছে লেখা জাস্টিফাই হতে হবে। এতে আপনার পাঠক সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাবে। সেই কারণে আর্টিকেলে লিখাগুলো অবশ্যই জাস্টিফাই আকারে লিখতে হবে। এতে করে আর্টিকেলের সৌন্দর্য অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। 

লিখাগুলো প্যারা প্যারা করে লিখতে হবে

একটা আর্টিকেলের পেজ সূচিপত্রে যে সকল বিষয়গুলো লিখা হয়, সেগুলো এক একটি হেডিং হিসেবে তৈরি করা হয়। সেই হেডিংগুলো আবার ভালোভাবে নিজে ব্যাখ্যা করে লেখা হয়। হেডিং এর নিচে যে লেখাগুলো থাকে সেগুলো সুন্দর করে প্যারা প্যারা করে লিখতে হয় বা ব্যাখ্যা করতে হয়। অর্থাৎ প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে ব্যাখ্যা করে প্যারা প্যারা আকারে বিশ্লেষণ করতে হয়।

লেখাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রতিটি সাব হেডিং বা ফোকাস কিওয়ার্ড এর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে হয়। একটি হেডিং এর মধ্যে দুইটি, তিনটি বা চারটি প্যারাও রাখা যায়। প্যারা কয়টি হবে তা নির্ভর করে আপনি কেমন আর্টিকেল লিখছেন তার ওপর। আপনি যত বড় বা বেশি শব্দের আর্টিকেল লিখবেন, সেক্ষেত্রে আপনার প্যারার সংখ্যাও বেশি হবে। 

ফিচার ইমেজ যুক্ত করতে হবে

প্রতিটি আর্টিকেলে ফিচার ইমেজ যুক্ত করতে হবে বা তৈরি করতে হবে। আপনি কোন ধরনের আর্টিকেল লিখছেন, সেই ধরনের একটি ফিচার ইমেজ তৈরি করতে হবে এবং সেটি আর্টিকেলের মধ্যে যুদ্ধ করে দিতে হবে। একটি আর্টিকেলে আপনি একটি, দুইটি বা তিনটি ফিচার ইমেজ যুক্ত করতে পারেন। তবে তিনটি হলে ভালো। 


আর্টিকেল লিখলে আপনাকে অবশ্যই ফিচার ইমেজ তৈরি করতে হবে। ফিচার ইমেজ এখন আর কোন কঠিন কাজ নয়, আপনি AI দিয়ে সহজেই ফিচার ইমেজ তৈরি করতে পারেন এবং সেটি SCO করে আর্টিকেল এর মধ্যে বসিয়ে দিতে পারেন। ফিচার ইমেজ আর্টিকেলের জন্য বলতে পারেন বাধ্যতামূলক।কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয় তার একটি নিয়ম হচ্ছে ফিচার ইমেজ তৈরি করতে হবে। 

উপসংহার লিখতে হবে 

প্রতিটি আর্টিকেলের শেষে একটি উপসংহার বা শেষ কথা লিখতে হয়। অর্থাৎ প্রতিটি আর্টিকেলের সারাংশ বা শেষ কথা বা সারমর্ম হিসেবে আপনাকে একটি উপসংহার লিখতে হয়। অর্থাৎ আর্টিকেল পড়ে আপনি কি বুঝলেন বা আপনার কি করা উচিত সে নিয়ে একটি ব্যাখ্যা লেখা থাকে। তাই প্রতিটি আর্টিকেলের শেষে অবশ্যই একটি উপসংহার দিতে হবে। 

তাই আর্টিকেল লিখলে আপনাকে অবশ্যই তার শেষে একটি উপসংহার লিখতে হয়। যাতে করে পাঠকরা একটি ব্যাখ্যার মাধ্যমে আটিকেল সম্পর্কে জানতে পারে এবং এই আর্টিকেল পড়ে আপনি কি করবেন বা কি করা উচিত তা জানতে পারবেন। কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয় আর একটি নিয়ম হচ্ছে আর্টিকেলের শেষে অবশ্যই একটি উপসংহার লিখতে হবে। 

শেষ কথা 

কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয় তা জানার জন্য আপনি এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন। প্রতিটি আর্টিকেল লেখার কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। সেই নিয়ম কানুন অনুযায়ী আপনি যদি আর্টিকেল লিখেন তাহলে অবশ্যই আপনার আর্টিকেল গুগলে একটি ভালো জায়গা স্থান করে নিতে পারবে এবং পাঠকরা পড়ে উপকৃত হতে পারবে। 

তাই আপনি যখনই আর্টিকেল লিখবেন, অবশ্যই এই নিয়ম কানুন গুলো মেনে লিখবেন। একটি আর্টিকেলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন কোন বিষয়ে যুক্ত করতে হয় তার পুরোটাই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি আর্টিকেলে কোন কোন বিষয়ে যুক্ত করতে হয়, সে বিষয়গুলো আপনাকে যুক্ত করে আর্টিকেল লিখতে হবে। তাই আর্টিকেল লেখার জন্য অবশ্যই এই নিয়ম কানুন গুলো মেনে তারপর লিখতে হবে। 

এই আর্টিকেলটা আমি আমার সর্বোচ্চতা দিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি। কোন ভুলত্রুটি হলে মাফ করবেন।  আর আর্টিকেলটা কেমন হয়েছে কমেন্টে জানাবেন। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url