শীতকালে সুমধুর খেজুরের গুড় খেতে অনেক মজা

শীতকালে খেজুরের গুড় খেতে অনেক মজা 

বাংলাদেশে মোট ৬ টি ঋতু । এর মধ্যে একটি হল শীতকাল । শীতকালে অনেক ঠাণ্ডা পড়ে । এই শীতকালে অনেক মজার মজার সবজি পাওয়া যায় । তারপর অনেক মজার মজার পিঠা খেতে পাওয়া যায় । আর এই মজার পিঠা বানানো হয় খেজুরের গুড় দিয়ে  । 


খেজুরের গুড় শুধুমাত্র পাওয়া যায় শীতকালে । শীতকালে খেজুরের গাছ থেকে হয় খেজুরের রস আর এই খিচুরের রস থেকে বানানো হয় খেজুরের গুড় বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন শক্ত গুড়, নরম গুড়, আবার পাতলা এক প্রকারের গুড় হয়। চলুন আজ এই খেজুরের গুড় নিয়ে আলোচনা করা যাক । 

পেজ সূচিপত্রঃ আজ আমরা এই আর্টিকেলটা পড়ে খেজুরের গুড় সম্পর্কে যা যা জানতে পারবো তা হল

খেজুরের গুড় কি 

খেজুরের গুড় হল একটি মিষ্টি জাতীয় খাবার যা শীতকালে তৈরি করা হয় এবং সারা বছর সংরক্ষণ করে খাওয়া যায় । এটি এমনি খাওয়া যায়, ভাত রুটি দিয়ে খাওয়া যায়, শরবত বানিয়ে খাওয়া যায় । এটি বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায় । শীতকালে চালের গুড়া দিয়ে আর গুড় দিয়ে বিভিন্ন মজার মজার পিঠা তৈরি করা হয় । যেগুলো খেতে অনেক মজা এবং সুস্বাদু ।

পিঠা শীতকালে বানানো হয় এবং শীতকালে খেতেই মজা লাগে । গুড় তৈরি হয় শীতকালে এবং সারা বছর খাওয়া যায় । গুড় প্রতিটি মানুষ পছন্দ করে এবং সবাই খায় । গুড় শরীরের জন্যও অনেক ভালো । তাই আমরা গুড় খেতে পারি । গুড় খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয় । আর খেজুরের রস খেজুরের গাছ থেকে হয় । খেজুরের গাছ সাধারণত গ্রামাঞ্চলে বেশি দেখা যায় । আর গুড়ও গ্রামেই তৈরি করা হয় ।

খেজুরের গুড়ের গুনাগুণ 

খেজুরের গুড়ের অনেক উপকারিতা বা গুনাগুন রয়েছে । খেজুরের রস মানব দেহের জন্য উপকারী ও  বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমৃদ্ধ একটি খাবার । প্রচলিত খাদ্য হিসেবে খেজুরের রস বেশ সস্তা, পুষ্টিকর এবং উপদেয় খাবার । এই খেজুরের রস থেকে খেজুরের গুড় বানানো হয় । খেজুরের রস খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি ভাবে খেজুরের গুড় অনেক সুস্বাদু । 

খেজুরের গুড় দিয়ে শীতকালে বিভিন্ন পিঠাপুলি বানানো হয় যা খেতে অনেক মজা এবং স্বাস্থ্যকর । তাই শীতকালে আমরা গুড় দিয়ে অনেক মজার মজার পিঠা বানিয়ে খায় । শীতকালে গুড় খাওয়া অনেক ভালো কারন গুড় খেলে শরীর গরম থাকে । গুড় খেলে শরীরে আরও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যোগ হয় । শীতকালে রোগবালাই বেশি হয় তাই গুড় খেলে রোগবালাই কম হবে । 

খেজুরের গুড়ের প্রকারভেদ 

খেজুরের গাছ থেকে তৈরি হয় খেজুরের রস । আর এই খেজুরের রস থেকে তৈরি হয় খেজুরের গুড় । এই খেজুরের গুড় বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে । একটি হয় শক্ত বা পাটালি গুড় যেটি দিয়ে বিভিন্ন পিঠাপুলি তৈরি করে খাওয়া যায় । তারপর আরেকটি হল ঝোলা গুড় বা লালি গুড়,  এটি হালকা পানির মতো পাতলা হয়ে থাকে । 


এটা দিয়ে ভাত রুটি খাওয়া যায় । এটি খেতে অনেক সুস্বাদু । আরেকটি হলো গোল গোল ছোট ছোট হয়ে থাকে এগুলো দিয়েও বিভিন্ন পিঠা পুলি তৈরি করে খাওয়া যায় বা এমনি ও খাওয়া যায় । যে যেমন খেতে পছন্দ করে তবে প্রতিটি গুড়ই খেতে অনেক সুস্বাদু এবং অনেক পুষ্টিগুণে ভরা যা খেলে আপনার শরীরে বিভিন্ন উপকার পাবেন ।

শরীর গরম রাখে 

শীতকালে প্রচুর শীত পড়ে আর অনেক শীত লাগে । খেজুরের গুড় খেলে শরীর গরম থাকে । তাই শরীরকে গরম রাখতে বা শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আপনি খেজুরের রস বা খেজুরের গুড় খেতে পারেন । খেজুরের গুড়ে নানা পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান রয়েছে, যা খেলে আপনার শরীর অনেক উপকার পাবে । তাই আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে খেজুরের গুড় খেতে পারি । 

খেজুরের গুড়ের নানা গুণাবলী রয়েছে । খেজুরের গুড় আমরা এমনি খেতে পারি আবার পিঠা পায়েস বানিয়েও খেতে পারি । আমরা যেভাবেই খাই না কেন পুষ্টিগুণ সমান অনুপাতে পাবে । ঠান্ডা আবহাওয়ায় খেজুরের গুড় আপনাকে আরামদায়ক রাখতে সাহায্য করবে । খেজুরের গুড়, তিল ও চিনাবাদাম মিশিয়ে খেলেও অনেক উপকার পাবেন ।

হজম শক্তি বাড়ায় 

এটি শীতকালীন মিষ্টি হজমকারী একটি খাবার । এটি এনজাইমকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে যা খাবার ভেঙে ফেলা সহজ করে তোলে । এর উচ্চ ফাইবারের পরিমাণ কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধেও সাহায্য করে যা শীতের মাস গুলোতে বেশি দেখা দেয় । কারণ শীতের সময়ে আমাদের নড়াচড়া তুলনামূলক কম হয়ে যায় । তাই বিভিন্ন রকমের সমস্যাও দেখা দেয় । 

খেজুরের গুড় অন্ত্র পরিষ্কার করতে সাহায্য করে থাকে । সেই সঙ্গে পেট ফাঁপা এবং বদ হজমের ঝুঁকি হ্রাস করে থাকে । তাই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য শীতকালে পেট ফাঁপা রোধ করার জন্য আমরা খেজুরের গুড় খেতে পারি । সেটা হতে পারে পাটালি গুড়, লালি গুড় বা ঝোলা গুড় । যে প্রকারের গুড়ই হোক না কেন তা বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়ে আমরা খেতে পারি । 

আয়রনের উৎস 

খেজুরের গুড় হলে আয়রনের উৎস, কারণ খেজুরের গুড়ে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে । সুতরাং খেজুরের গুড় খেলে আমাদের শরীরে আয়রনের অভাব দূর হবে বা আয়রনে আমাদের শরীর পরিপূর্ণ হয়ে যাবে । তাই আমাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলে আমরা খেজুরের গুড় মাঝে মধ্যে খেতে পারি । এতে করে আয়রন জনিত রোগ বালাই কম হবে । 


খেজুরের গুড় আয়রনের সাথে সাথে ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থে ভরপুর । আয়রন সুস্থ হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে, অন্যদিকে ম্যাগনেসিয়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সমর্থন করে । নিউট্রিশন রিভিউ এর একটি গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে যে,খনিজ সমৃদ্ধ খাবার শরীরকে মৌসুমী সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে । 

খাদ্য তালিকায় খেজুরের গুড় রাখলে তা ঠান্ডা এবং কাশির মতো শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে থাকে । তাই আমরা রোগবালাই কমাতে বা সুস্থ থাকতে নিয়মিত বা মাঝে মাঝে খেজুরের গুড় খেতে পারি । এটি আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি খাবার ।

খেজুরের রস 

খেজুরের রস খুবই মিষ্টি একটি পানীয় খাবার । এটি পানির মতো পাতলা এবং খেতে অনেক মিষ্টি এবং সুস্বাদু । খেজুরের গাছে রাতের বেলায় চেঁছে কলসি লাগিয়ে রেখে দেয় । সকাল বেলায় উঠে দেখা যায় যে কলসিতে এই মিষ্টি পানি জমে আছে । খেজুরের গাছ সাধারণত গ্রামাঞ্চলে বেশি দেখা যায় । প্রত্যেক বছর শীতের সময় খেজুরের রস বের করা হয় । চাষিরা মানে যারা খেজুরের গুড় বানায় তারা খেজুর গাছ এই খেজুরের রস বের করে । 

তারপর খেজুরের গুড় বানানো হয় । খেজুরের রস খেতে অনেক মিষ্টি, সুস্বাদু এবং অনেক উপকারী । খেজুরের রস খেতে অনেক মজা লাগে । ছোট বড় সবাই মোটামুটি খেজুরের রস খেতে পছন্দ করে বা ভালোবাসে । শীতকালে মোটামুটি সবাই এটি পছন্দ করে । কিছু কিছু মানুষের কাছে এটি একটি এমন খাবার যা খেতেই হবে । 

মজাদার পিঠা তৈরি 

খেজুরের গুড় দিয়ে অনেক মজাদার পিঠা তৈরি করা সম্ভব । আপনি যে পিঠা বানান না কেন তাতে যদি খেজুরের গুড় যোগ করেন তাহলে সেটি খেতে অনেক মজার এবং সুস্বাদু হয়ে যাবে । আমরা মিষ্টি জাতীয় খাবার বা পিঠা তৈরি করি চিনি অথবা গুড় দিয়ে । তাই মিষ্টি জাতীয় পিঠা তৈরি করার জন্য যদি চিনির পরিবর্তে আপনি গুড় ব্যবহার করেন তাহলে সে পিঠা অনেক মজাদার হয়ে যাবে ।

যেমন ক্ষীর পায়েস ইত্যাদিতে যদি আপনি গুড় ব্যবহার করেন তাহলে দেখবেন সেই পায়েস বা ক্ষীর খেতে কতটা মজাদার হয় । তাই পিঠা তৈরি করার জন্য আপনি সর্বদা গুড় ব্যবহার করতে পারেন । গুড় দিয়ে পিঠা বানিয়ে একবার খেলে আপনি আর অন্য কিছু খেতে চাইবেন না ।

শীতকালীন পিঠা তৈরি 

শীতকালে বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি তৈরি করা হয় । এটি বাঙ্গালির একটি ঐতিহ্য খাবার । তাই বলা হয় শীতকালে বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরি করা হয় । সাধারণত শীতকালে সকল পিঠা তৈরি করা হয় খেজুরের গুড় দিয়ে । শীতকালে কেউ চিনি দিয়ে পিঠা তৈরি করে না । যত খাবারই তৈরি করা হোক না কেন সেগুলো গুড় দিয়ে তৈরি করা হয় । 


একেক অঞ্চলে একটি পিঠার অনেক নাম, অর্থাৎ একেক অঞ্চলের একটি পিঠার বিভিন্ন নাম হয়ে থাকে । যেমন পাটিসাপটা, দুধপুলি, রসচিতাই, আখিয়া, ভাপা পিঠা ইত্যাদি আরও বিভিন্ন ধরনের পিঠা রয়েছে । যেগুলো সবই খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি করা হয় । শীতকালে মানুষ এই পিঠা অনেক উপভোগ করে ।  সারা বছর যাই হোক না কেন শীতকালে মানুষ এগুলো মজা করে খায় । 

সারা বছর ব্যবহার 

খেজুরের গুড় সাধারণত বছরে একবার অর্থাৎ শীতকালে তৈরি করা হয় । তাই এটা শুধু শীতকালে কিনতে পাওয়া যায় । কিন্তু কিছু কিছু মানুষ এটি সারা বছর খেতে পছন্দ করে । তাই আমরা সারা বছর খাওয়ার জন্য এটি শীতকালে কিনে নিয়ে ভালোভাবে সংরক্ষণ করে রাখতে পারি । যেমন শীতকালে গুড় এমনি জায়গায় রেখে দিলে শক্ত হয়ে থাকে বা সুন্দর হয়ে থাকে । 

কিন্তু গরমকালে যদি আমরা এটা যে কোন জায়গায় রেখে দেই তাহলে এটি পানির মতো গলে যেতে শুরু করবে বা  লেকটা হয়ে যাবে । তাই এটি আমরা যদি ফ্রিজে রেখে দেই তাহলে সারা বছর সুন্দর হয়ে থাকবে এবং এটি আমরা সারা বছর ব্যবহার করতে পারব । তাই বছরে একবার কিনে সারা বছর সংরক্ষণ করে এটি আমরা ব্যবহার করতে পারি বা খেতে পারি । 

জনপ্রিয়তা 

খেজুরের গুড় খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার । গ্রামের মানুষ তো খুবই পছন্দ করে তার সাথে শহরের মানুষও খুব পছন্দ করে । এই খাবারটি ছোট বড় সবাই খুব পছন্দ করে । এটা যেমন বড় মানুষরাও খায় তেমনি ছোট মানুষও খেতে পারে, আবার বৃদ্ধ মানুষরাও খেতে পারে । এর মধ্যে কোন ভেজাল নেই বরঞ্চ এটি খেলে উপকার আছে । 

এটি এমনি খেতে যেমন মজা, তেমনি শরবত বানিয়ে খেতেও অনেক মজা । আর পিঠাপুলির কথা তো বলাই দায় । কারণ খেজুরের গুড় দিয়ে পিঠা বানালে এত মজা হয় যা বলে শেষ করা যাবে না । প্রায় শীতকালে খেজুরের গুড় খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার । কারণ এটি ছাড়া কোন পিঠাগুলি তৈরি করা যাবে না । হয়তো যাবে কিন্তু খেজুরের গুড়ের মতো মজাদার হবে না । 

শেষ কথা 

শীতকাল মানেই হলো নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের আয়োজন । তার একটি মূল উপকরণ হলো খেজুরের গুড় । এর সমৃদ্ধ স্বাদ এবং প্রাকৃতিক মিষ্টির কারণে সবাই এটি পছন্দ করে । এই গুড় পুষ্টিতে ভরপুর যা  আমাদের শীতের মাস গুলোতে উষ্ণ এবং শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে । এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে হজমের সহায়তা করা পর্যন্ত বেশ কিছু স্বাস্থ্যকর সুবিধা প্রদান করে থাকে। 

আপনি যদি পরিশোধিত চিনির একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প খুঁজে থাকেন, তাহলে এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি হতে পারে সেরা পছন্দ । তাই আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য আপনি খেজুরের গুড় ব্যবহার করতে পারেন । মিষ্টি জাতীয় খাবারের মধ্যে এটি একটি খুবই সুস্বাদু খাবার । 

কোন ভুল ত্রুটি হলে মাফ করবেন । কারণ মানুষ মাত্রই ভুল ত্রুটির উর্ধ্বে নয় । আমার যতটুকু জানা আছে তার সর্বোচ্চটা দিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি । আর্টিকেলটা কেমন হয়েছে কমেন্টে জানাবেন । 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url