বিনা ঝামেলায় করলার জুস কিভাবে বানাবেন

করলার জুস বানানোর নিয়ম ও কিভাবে খাবেন ? 

 

করলা হচ্ছে এক ধরনের সবজি । যা আমরাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জীবনে প্রয়োজন । আমরা মাঝে মধ্যে করলা খেয়ে থাকি । এটি বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া যায় । এই সবজিটি প্রচুর পরিমাণে তেতো, যার কারণে অনেকেই খেতে চায় না ।


কিন্তু এর অনেক গুনাগুন রয়েছে । বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী একটি সবজি । অর্থাৎ এটি খেলে সুগার তাড়াতাড়ি কমে যাবে । করলার জুস বানিয়েও খাওয়া যায় । তাই আজ আমরা করলার জুস বানানোর নিয়ম নিয়ে আলোচনা করব । 

পেজ সূচিপত্র ঃ করলার জুস বানানোর নিয়ম নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করব

করলা কেমন ? 

করলা এক প্রকারের সবজি । যা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জীবনের মধ্যে একটি প্রয়োজনীয় খাবার ।  যেটি আমরা প্রায় সময় খেয়ে থাকি । করলা বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া যায় । করলা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলু দিয়ে ভাজি করে খাওয়া যায়, তরকারি রান্না করে খাওয়া যায়, মাছ দিয়ে রান্না করে খাওয়া যায় । বিভিন্নভাবে করলা রান্না করে খাওয়া যায় । 

এই করলা প্রচুর পরিমাণে তেতো । সে কারণে অনেকেই করলা খেতে পছন্দ করেন না । তবে করোলায় অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে । যেমন করোলার তরকারি খেলে আপনার শরীরের সুগার লেভেল কমে যাবে,  যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই জরুরী একটি বিষয় । এছাড়াও করলা খেলে শরীরের বিষ ব্যথা মরে । তাই এ সকল কারণে আপনি করলা খেতে পারেন । 

করলার প্রকারভেদ 

ভারতীয় করলাঃ পাতলা, সূক্ষ্ম প্রান্ত এবং খাজকাটা শিরা সহ । গারো সবুজ এবং আপাত দৃষ্টিতে আরও  বেশি তেতো । এটি ভারতীয় করলা তাই আমাদের দেশে মাঝে মধ্যে পাওয়া যায় । তবে সব সময় পাওয়া যায় না ।

চাইনিজ করলাঃ লম্বা এবং চওড়া হালকা সবুজ খোসার নিচে মসৃণ ভারতীয় ঢাল থাকে । ভারতীয় করলার মতো শক্তিশালী নয় । এই চাইনিজ করলা আমাদের দেশে পাওয়া যায় না । এটি শুধুমাত্র তাদের দেশে পাওয়া যায় । 

সাদা করলাঃ এটি একটি বিরল ধরনের করলা যার খোসা সাদা, একটু কম তেতো এবং আরো কোমল
প্রকৃতির হয় । এই সাদা করোলা আমাদের দেশে পাওয়া যায় না ।

বুনো করলাঃ ছোট, অত্যন্ত তেতো এবং ভেষজ  চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় । এটি আমাদের দেশে তৈরি হয়ে থাকে । অর্থাৎ এই করলার চাষ আমাদের দেশে করা যাই বা করা হয় । আর এটি হচ্ছে আমাদের দেশি করলা । এই করোলাটা  আমরা খেয়ে থাকি । অন্যান্য করলার তুলনায় এই করলা খেতে ভালো লাগে । 

করলার গুনাগুণ 

করলা পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি তেতো সবজি । এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, আয়রন, পটাশিয়াম ইত্যাদি রয়েছে । তাই বুঝতেই পারছেন, করলাতে কি পরিমান পুষ্টিগুণ রয়েছে ।এছাড়াও করোলা খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে,  ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে । 

আরও পড়ুন ঃ তরকারিতে হলুদ বেশি হলে কি করবেন জেনে নিন ? 

এছাড়াও করোলা খেলে লিভার এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে । তারপর করোলা খেলে আপনার রক্ত পরিশোধিত হবে । তাই বুঝতেই পারছেন করলা খেলে আপনার শরীরের কতগুলো রোগ বালাই থেকে মুক্তি পাবেন । তাই করলা খাওয়া প্রতিটি মানুষের জন্য অনেক ভালো একটি সবজি । তাই এ সকল গুনাবলি পাওয়ার জন্য আপনার খাদ্য তালিকায় করলা রাখতে পারেন । 

জুস বানানোর নিয়ম 

করোলার জুস কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রে ওষুধের মত কাজ করে । তাই আপনার এ সকল সমস্যার ক্ষেত্রে আপনি করলার জুস বানিয়ে খেতে পারেন । জুস বানানো খুবই সহজ একটা পদ্ধতি । প্রথমে করলা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে, তারপর করলার বিচি গুলো ফেলে দিতে হবে । তারপর করোলাকে ছোট ছোট করে কেটে নিতে হবে ।

তারপর করোলার ছোট ছোট টুকরা গুলোকে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে, ছেঁকে গ্লাসে ঢেলে নিতে হবে ।  তারপর করোলার তেতো কমানোর জন্য হালকা বিট লবণ বা লেবুর রস মিশিয়ে দিতে পারেন । তারপর করলার জুস তৈরি হয়ে যাবে । এই জুস বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প অল্প করে খেয়ে দেখতে পারেন ।  প্রথমে অল্প করে খাওয়াই ভালো ।

জুস খাওয়ার নিয়ম 

করলা খুবই পুষ্টিগণ সম্পন্ন একটি তেতো সবজি । এটি সবাই পছন্দ করে না, তবে এর পুষ্টিগুণের কারণে কিছু কিছু মানুষ করোলা খুব পছন্দ করে । যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন উপকারিতা প্রদান করে থাকে ।  করলা জুস করার সময় বিচিগুলো ফেলে দিতে হয় এবং জুস বানানোর পর তাতে বিট লবণ বা লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন তেতো কমানোর জন্য । 

তারপর আপনি সকালে খালি পেটে করলার জুস খেতে পারেন । এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই ভালো একটি খাবার । যা ওষুধের মত কাজ করে । সকালে যেহেতু খালি পেটে খাবেন, তাই অল্প পরিমানে খাওয়ার চেষ্টা করবেন । কারণ বেশি পরিমাণে খেলে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে । পাতলা পায়খানা জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে । তাই অল্প পরিমানে খাওয়ায় ভালো । 

করলার জুসের গুনাগুন 

করলার জুস খুবই পুষ্টিকর এবং উপকারী পানীয় । এটি খেলে আপনার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে । এটি রক্তে থাকা শর্করার মাত্রা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে । এছাড়াও এটি শরীরের চর্বি কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে ।এছাড়াও নিয়মিত করলার জুস খেলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ।


তাছাড়া করলা খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে, শরীরের বিষ ব্যথা কমে যাবে । এছাড়াও আপনার ত্বক এবং চুল সুন্দর হবে । আপনার ত্বকের বলিরেখা কমিয়ে, ত্বক টানটান হবে । এছাড়া করোলা খেলে আপনার লিভার ভালো এবং সুস্থ থাকে । তাই করলার জুস খেলে আপনি এতগুলো উপকারিতা পেয়ে যাবেন । যার ফলে আপনার শরীর সুস্থ এবং সতেজ থাকবে । 

জুস কাদের জন্য ভালো 

প্রতিটি মানুষের জন্যই করলার জুস ভালো । কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই করলার জুস খুবই উপযোগী । কারণ ডায়াবেটিস রোগীদের সুগার লেভেল বেড়ে যায় । আর এই করলার জুস সুগার লেভেল কমিয়ে দেয় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে । এছাড়া যাদের ওজন বেড়ে যাচ্ছে,  ওজন কমাতে চাচ্ছেন তারা খেতে পারেন । 

এছাড়াও যাদের ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তারা ত্বক সুস্থ এবং সুন্দর টানটান করার জন্য করলার জুস খেতে পারেন । এছাড়াও করলার জুস খেলে ত্বকের সঙ্গে আপনার চুলও ভালো থাকে । তাই এ সকল সমস্যায় যারা ভুগছেন, তারা এই সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিয়মিত করলার জুস খেতে পারেন । 

জুস কখন খাওয়া ভালো

প্রতিটি খাবারেরই খাওয়ার নিয়ম কানুন রয়েছে, ঠিক তেমনি ভাবে করলার জুস খাওয়ারও একটি নিয়ম রয়েছে । তবে এ করলা জুস যে কোন সময় চাইলে আপনি খেতে পারেন, কোন সমস্যা নেই । তবে সকাল বেলায় খালি পেটে আপনি যদি করলার জুস খান, তাহলে অনেক উপকারিতা পাবেন । করলার জুস খেলে আপনার পেট পরিষ্কার থাকে । 

তাই সকালে খালি পেটে করলার জুস খেলে আপনার পেট পরিষ্কার, সাথে সাথে আপনার অন্ত্র সচল থাকবে । তাই বুঝতেই পারছেন সকালে খালি পেটে খাওয়াটাই সবথেকে উত্তম । তাই আপনি করলা জুস খেলে সকালে খালি পেটে খাওয়ার চেষ্টা করবেন । এতে ভাল ফলাফল পাবেন । 

করলার স্বাস্থ্য উপকারিতা

করলার মধ্যে থাকা এক বিশেষ উপাদান প্রাকৃতিক ভাবে ইন্সুলিনের কাজ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে । ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য করোলা বা করার জুস খুবই উপকারী । এছাড়া এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে থাকে । এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়, যা আপনার রক্তকে পরিষ্কার করতে সহায়তা করবে ।


এছাড়াও করলার জুসে কম ক্যালরি ও কম ফাইবার থাকার কারণে, আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে থাকে । এছাড়া করলার জুস আপনার লিভার কে ভালো রাখতে বা সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ।  তাছাড়াও করোলা জুস আপনারা হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে । তারপর করলার জুস আপনার ত্বক এবং চুলের যত্নে সহায়তা করে থাকে । 

জুস খাওয়ায় সতর্কতা

প্রতিটা জিনিসই খাওয়ার ভালো দিক এবং খারাপ দিক রয়েছে । করলার জুস খাওয়ারও ভালো দিক এবং সামান্য পরিমাণে খারাপ দিক রয়েছে । এটি সুগার লেভেল খুব তাড়াতাড়ি কমিয়ে দেয় । তাই যাদের লো পেসার তারা করলার জুস খাওয়া থেকে দূরে থাকাই ভালো । এছাড়াও যারা ডায়াবেটিসের রোগী তাদের জন্য করলার জুস ভালো,   কিন্তু তারা যদি নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ খান তাহলে তাদের করলার জুস খাওয়া যাবে না ।

কারণ করলার জুস এবং ওষুধ একসঙ্গে খেলে সমস্যা দেখা দিতে পারে । অর্থাৎ সুগার লেভেল একেবারে কমে যেতে পারে । সুগার লেভেল একেবারে কমে যাওয়াও খারাপ । তাই তাদের না খাওয়াই ভালো ।  এছাড়াও আপনি যদি অতিরিক্ত করলার জুস খান, তাহলে পেট খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । তাই খেলে আপনাকে অল্প পরিমাণে খেতে হবে । 

শেষ কথা

করলা এবং করোলার জুস খুবই পুষ্টিগুনে ভরা খাবার । কিন্তু করলা তেতো হওয়ার কারণে অনেকেই খেতে পছন্দ করে না । তবে করলা আপনি এমনি রান্না করেও খেতে পারেন । আবার জুস বানিয়েও খেতে পারেন । করলার জুস অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের মত কাজ করে । তাই আপনি উপরোক্ত সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিয়মিত করলার জুস খেতে পারেন । 

আপনার যদি অল্প পরিমাণে সমস্যা থাকে, তাহলে আপনি মাঝে মধ্যে জুস খেতে পারেন । প্রথমে যখন খাওয়া শুরু করবেন তখন অল্প পরিমানে খাওয়ার চেষ্টা করবেন । কারণ বেশি পরিমাণে খেলে সমস্যা দেখা দিতে পারে । আর্টিকেলটা কেমন হয়েছে কমেন্টে জানাবেন । ভুল ত্রুটি হলে মাফ করবেন । সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন । সবাইকে অনেক ধন্যবাদ । 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url