বিনা জামেলায় কমলার খোসা দিয়ে ফেসপ্যাক বানান
ফেসপ্যাক বানানোর আধুনিক পদ্ধতি জেনে নিন
কমলা খুবই সুস্বাদু টক জাতীয় একটি রসালো ফল । এই ফলটি টক মিষ্টি জাতীয় হয় । খেতে অনেক মজা লাগে । ছোট বড় সবাই, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাটা খুব পছন্দ করে । এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে ।
তাই ভিটামিন সি এর অভাব দূর করতে আমরা নিয়মিত কমলা খেতে পারি । এই ফলটি যেমন
আমাদের শরীরের জন্য কার্যকর, ঠিক তেমনিভাবে কমলার খোসাও আমাদের জন্য অনেকটাই
গুরুত্বপূর্ণ । চলুন আজ আমরা কমলার খোসা নিয়ে আলোচনা করি ।
পেজ সূচিপত্রঃ কমলার খোসা সম্পর্কে আজ আমরা যা যা নিয়ে আলোচনা করব তা হল
- কমলা এবং কমলার খোসা
- কমলার গুণাগুণ
- কমলার খোসার গুনাগুন
- ত্বকের সমস্যা দূর করতে কমলা
- কমলা খাওয়ার নিয়ম
- কমলার ফেসপ্যাক যেভাবে বানাবেন
- ফেসপ্যাক ব্যবহার করার নিয়ম
- ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফেসপ্যাক
- কমলালেবুর খোসার টোনার
- কমলালেবুর খোসার তেল
- সংরক্ষণ পদ্ধতি
- শেষ কথা
কমলা এবং কমলার খোসা
কমলা খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণে ভরা একটি ফল । এই টক মিষ্টি জাতীয় ফল খেতে
খুবই ভালো লাগে । এই ফলটি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এ ভরা । তাই আমাদের শরীরে
ভিটামিন সি এর অভাব দূর করতে আমরা নিয়মিত কমলালেবু খেতে পারি । কাটা, ছেঁড়া,
ঘা, ক্ষত পূরণ করতে বা কাটা ছেঁড়া তাড়াতাড়ি জোড়া লাগতে আমরা কমলালেবু খেতে
পারি ।
কমলা লেবু আমাদের জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনিভাবে কমলা লেবুর খোসাও
আমাদের জন্য অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ । অর্থাৎ এই খোসা দিয়ে আমরা ফেসপ্যাক
বানিয়ে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারি । এছাড়াও এই খোসা থেকে তেল বানিয়ে
আমরা চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারি । এই খোসা আমাদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়
। তাই কমলার পাশাপাশি খোসাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।
কমলার গুণাগুণ
কমলার অনেক গুনাগুণ রয়েছে যা বলে শেষ করা সম্ভব নয় । কমলালেবু আমাদের শরীরের
যেমন ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ করে, ঠিক তেমনি ভাবে আরও বিভিন্ন রোগবালায় থেকে
দূরে রাখে ।কমলালেবু ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি ফল । এটি
খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।
হজম শক্তি বৃদ্ধি করে । এছাড়াও আমাদের ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে ।
হৃদযন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে । তাই বুঝতেই পারছেন এর কতগুলো গুণাবলী রয়েছে
। এছাড়াও আমাদের শরীরের কোন অংশ কেটে গেলে বা ক্ষত হলে কমলালেবু খেলে তা
তাড়াতাড়ি ভালো হতে সাহায্য করে । এছাড়াও নিয়মিত কমলা খেলে আমাদের ক্লান্তি
দূর হয় এবং শরীর সতেজ থাকে ।
কমলার খোসার গুনাগুণ
কমলা যেমন অনেক উপকারী এবং কার্যকরী একটি ফল, ঠিক তেমনি ভাবে কমলার খোসা আমাদের
অনেক উপকারে আসে । প্রথমত এটি আমরা আমাদের ত্বকের যত্নে ব্যবহার করে থাকি ।
ত্বকের যত্নের জন্য আমরা কামলার খোসা কাঁচা পিষে মুখে লাগাতে পারি । তারপর খোসা
রোদে শুকিয়ে গুড়া করে রেখে অনেক সময় ধরে ব্যবহার করতে পারি ।
এছাড়াও আমরা কমলার খোসার টোনা বানিয়ে আমাদের ত্বকে ব্যবহার করতে পারি ।
এছাড়াও কমলার খোসা থেকে তেল তৈরি করে আমাদের চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারি ।
তাই বুঝতেই পারছেন কমলার খোসা কতগুলো কাজ রয়েছে । তাই প্রথমত আমাদের ত্বকের
যত্নের জন্য আমরা কমলার খোসা নিয়মিত ব্যবহার করতে পারি ।
ত্বকের সমস্যা দূর করতে কমলা
আমাদের ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে বা দেখা দেয় । তাই সকল
সমস্যা দূর করার জন্য আমরা কমলার খোসার ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারি
। আমাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন কালচে ভাব, ব্রণ উঠা, তেলতেলে ভাব,
শুষ্ক ভাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে । এই সকল সমস্যার জন্য আপনি কমলার খোসার
ফেসপ্যাক বানিয়ে আপনি ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন ।
কমলার খোসার ফেসপ্যাক টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান । যা আপনার ত্বকে
ব্যবহার করলে আপনি খুব ভালো একটি রেজাল্ট পাবেন । অর্থাৎ আপনি যদি নিয়মিত
কমলার খোসার ফেসপ্যাক ব্যবহার করেন, তাহলে দেখবেন আপনার ত্বক থেকে সকল সমস্যা
গুলো দূর হয়ে যাবে এবং আপনার ত্বক আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠবে ।
কমলা খাওয়ার নিয়ম
কমলা খাবার তেমন কোনো নিয়ম কানুন নেই । অর্থাৎ আপনি যেকোনো সময় চাইলে
কমলালেবু খেতে পারেন । তবে কমলালেবু বা যে কোন ফল খান না কেন, এটি ভরা পেটে
খেলে বেশি ভালো । অনেক সময় খালি পেটে খেলে এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা দেখা
দিতে পারে । সেক্ষেত্রে আপনি সব সময় ভরা পেটে অর্থাৎ খাবার খাওয়ার পর
কমলালেবু খেতে পারেন ।
অর্থাৎ আপনি রাতে খাবার শেষ করার পর কমলালেবু যদি খান সেক্ষেত্রে ভালো ফলাফল
পাবেন । কমলা লেবু খেলে আপনার চেহারা উজ্জ্বল হবে এবং সতেজ ও প্রাণবন্ত হবে ।
কমলা লেবু আপনার শরীরের জন্য অনেক উপকারী একটি ফল । তাই আপনি চেষ্টা করবেন
প্রতিদিন না পারলেও মাঝে মধ্যে কমলা লেবু খাওয়ার ।
কমলার ফেসপ্যাক যেভাবে বানাবেন
কমলার ফেসপ্যাক আপনি দুইভাবে বানাতে পারেন । অর্থাৎ কমলা খাওয়ার পর তার খোসা
ছাড়িয়ে খোসাটাকে ব্লেন্ডারে বা পাটায় বেটে তার সাথে মধু, টক দই ইত্যাদি জিনিস
মিক্স করে ব্যবহার করতে পারেন । এটি হচ্ছে একটি পদ্ধতি । অর্থাৎ খোসাটাকে কাঁচা
বেটে সাথে সাথে বানিয়ে ব্যবহার করতে হবে । এটি যখন ব্যবহার করবেন তখনই বেটে
তৈরি করতে হবে ।
আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে খোসাটাকে রৌদ্রে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে । অর্থাৎ
এই খোসাটা গুড়া করা যাবে, এইরকম মচমচা করে রোদে শুকাতে হবে । তারপর যখন
ভালোভাবে রোদ্রে শুকিয়ে যাবে তখন আপনি খোসাটাকে গুড়া করে রেখে দিতে পারেন ।
অর্থাৎ যখন যখন আপনি ব্যবহার করবেন, তখন তখন গুঁড়াটা নিয়ে পানি দিয়ে
গুলে ব্যবহার করতে পারেন । এর সাথে ঠিক একই ভাবে টক দই, মধু ইত্যাদি
মিশিয়ে নিতে পারেন ।
ফেসপ্যাক ব্যবহার করার নিয়ম
কমলা লেবুর খোসা দিয়ে যে ফেসপ্যাক টা বানাবেন সেটি ব্যবহার করা খুবই সহজ
। হঠাৎ খোসাটা কাঁচা অর্থাৎ কমলা থেকে খোসা ছাড়িয়ে সাথে সাথে বেটে তার
সাথে মধু, টক দই ইত্যাদি মিস করে আপনার ত্বকে লাগাবেন । তারপর ১৫-২০ মিনিট
ভালোভাবে শুকিয়ে নেবেন । তারপর এটি ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলবেন ।
দেখবেন আপনার ত্বক অনেক সুন্দর এবং সতেজ হয়ে গেছে ।
আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে যেটি আপনি খোসা শুকনা গুড়া করে রাখবেন । সেই গুঁড়া থেকে
এক চা চামচ নিয়ে তার সঙ্গে একটু পানি দিবেন । তারপর ঠিক একইভাবে টক দই, মধু,
মুলতানি মাটি বা পানির পরিবর্তে গোলাপজল ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন । সেটিও
ঠিক একইভাবে মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট শুকিয়ে নিবেন । তারপর ঠান্ডা পানি
দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন ।
ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফেসপ্যাক
ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয় বা একেক জনের একেক ধরনের সমস্যা হয় । সকল
সমস্যার জন্যই আপনি কমলা লেবুর খোসার গুড়া ব্যবহার করতে পারেন । যেমন
উজ্জ্বলতা বা আদ্রতার জন্য আপনি কমলার খোসার গুড়া, তার সাথে এক চামচ মধু মিক্স
করে আপনার ত্বকে লাগিয়ে ব্যবহার করতে পারেন । এতে ভাল ফল পাবেন ।
এছাড়া রোদে পোড়া ভাব দূর করতে, আপনি কমলালেবুর খোসার গুড়ার সঙ্গে বা কমলালেবু
খোসা বেটে তার সাথে এক চামচ টক দই ব্যবহার করতে পারেন । এতে করে আপনার রোদে
পোড়া ভাব চলে যাবে এবং আপনার ত্বক উজ্জ্বল এবং সতেজ হয়ে উঠবে ।
তারপর রয়েছে আপনার ত্বক যদি তেল তেলে হয়, সেক্ষেত্রে কি করবেন ? আপনার
ত্বকের তেল তেলে ভাব দূর করার জন্য কমলালেবুর খোসার গুঁড়ার সঙ্গে বা আস্ত কমলা
লেবুর খোসা বেটে, তার সঙ্গে মুলতানি মাটি মিস করতে পারেন । তারপর সেই ফেসপ্যাক
আপনার ত্বকে ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর হয়ে যাবে ।
কমলা লেবুর খোসার টোনার
কমলালেবুর খোসার টোনার মানে হচ্ছে এক জাতীয় পানি উপাদান । যা আপনার ত্বকে
ব্যবহার করলে আপনার ত্বক অনেক সুন্দর উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে ।
পাশাপাশি আপনার ত্বক থেকে তেল তেলে ভাব ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর হয়ে
যাবে । এই টোনার আপনাকে বাড়িতে ঘরোয়া ভাবে তৈরি করতে হবে । তারপর ত্বকে
ব্যবহার করতে পারবেন ।
এটি তৈরি করার জন্য প্রথমে পানি গরম করতে হবে । তারপর পানিতে কমলার খোসা
ছাড়িয়ে খোসাটি পানিতে দিয়ে দিতে হবে । তারপর পানি ভালোভাবে ফুটাতে হবে । এতে
করে কমলার খোসার গুনাগুন গুলো পানিতে চলে আসবে । তারপর এই পানি ঠান্ডা করে
আপনার মুখে স্ক্রাব করতে হবে । দেখবেন আপনার ত্বক অনেক উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে
।
কমলালেবুর খোসার তেল
কমলালেবুর খোসার তেল বানিয়ে তা ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন ।
কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে রোদে শুকনো করে নিতে হবে । এই শুকনো কামলা লেবুর খোসা
আমন্ড বা অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন । ওই তেলের জারের মধ্যে খোসা গুলো রেখে
দেবেন । একটু অন্ধকার এবং ঠান্ডা জায়গায় বোতলটি রাখলে ভালো হয় ।
সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে কমলালেবুর খোসার তেল ।
এই তেল শ্যাম্পু, হেয়ার অয়েল বা ফেসিয়াল ওয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে
উপকার বেশি পাবেন । তবে আপনি এমনিতেও ব্যবহার করতে পারেন । তাতে কোন
সমস্যা নেই । এভাবে আপনি আপনার চুলে ব্যবহার করে উপকৃত হবেন । এটি ব্যবহার
করলে চুল পড়া বন্ধ হবে, খুশকি দূর হবে । এছাড়াও নানা সমস্যা দূর হয়ে
যাবে ।
সংরক্ষণ পদ্ধতি
সংরক্ষণ পদ্ধতি অর্থাৎ গুড়া তৈরি করার পর আপনি কিভাবে সংরক্ষণ করে রাখবেন ।
কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে সেই খোসাটি সাথে সাথে বেটে ফেসপ্যাক বানিয়ে আপনি
ব্যবহার করতে পারেন । এক্ষেত্রে সংরক্ষণ করে রাখার কোন পদ্ধতি নেই । কিন্তু
কমলার খোসা রোদে শুকিয়ে যখন গুড়া করে রাখবেন দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার জন্য ।
সেক্ষেত্রে সংরক্ষণ করার প্রয়োজন রয়েছে ।
অর্থাৎ কমলার খোসা প্রথমে গুড়া করে নিবেন । তারপর সেটি একটি প্লাস্টিকের বা
কাঁচের যেকোনো বয়ামে আপনি সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন । তবে প্লাস্টিকের চেয়ে
যদি কাঁচের বয়ামে সংরক্ষণ করে রাখেন, তাহলে বেশি দিন ভালো থাকে । এটি ঠান্ডা
জায়গায় রাখলে বেশি ভালো থাকে । এটাই হচ্ছে সংরক্ষণ পদ্ধতি ।
শেষ কথা
কমলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পুষ্টিকর একটি ফল । এই টক মিষ্টি ফলটি খেতে
খুব ভালো লাগে । এটি খেতে যেমন ভালো লাগে ঠিক তেমনি আমাদের শরীরের জন্য
অনেক পুষ্টিকর । আর কমলার পাশাপাশি কমলালেবুর খোসাও আমাদের জন্য অনেক
গুরুত্বপূর্ণ । তাই কমলা খেলে একসঙ্গে দুটি উপকার পাওয়া যাবে ।
কমলা আমাদের শরীরের ভিটামিন সি এর অভাব দূর করবে । পাশাপাশি কমলা লেবুর খোসা
আমাদের ত্বক এবং চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে । আর্টিকেলটা কেমন
হয়েছে কমেন্টে জানাবেন । কোন ভুল ত্রুটি হলে মাফ করবেন । আমার যতটুকু জানা আছে
তার সব দিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি । সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন ।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url