আঙ্গুর হচ্ছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি ফল । এটি আমাদের সবার খুবই পছন্দের একটি
ফল । এই ফলের চাষ বাংলাদেশ করা হয় বা করা সম্ভব । বছরের প্রায় সব সময় এই ফলটি
উৎপাদন করা হয় এবং খেতে পাওয়া যায় ।
শুধু বড় নয়, ছোট বাচ্চারাও এই আঙ্গুর ফল খেতে খুবই পছন্দ করে । এই আঙ্গুরে
বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে যা আমাদের শরীরে বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখে । তাই এই
সকল ভিটামিন পাওয়ার জন্য আমরা নিয়মিত আঙ্গুর খেতে পারি ।
পেজ সূচিপত্র ঃ আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি নিয়ে আজ আমরা যা জানব তা হল
আঙ্গুর হচ্ছে একটি মিষ্টি জাতীয় ফল । যা খেতে খুবই মজা বসে বা সুস্বাদু ।
পাশাপাশি এই ফলটি খুবই স্বাস্থ্যকর । তাই আমরা নিয়মিত আঙ্গুর ফল খেতে পারি,
আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন পেতে । বর্তমানে শহরে এবং
গ্রাম অঞ্চলে সব জায়গায় আঙ্গুর চাষ করা হচ্ছে । এই আঙ্গুর খুবই উপকারী একটি ফল
।
গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন খোলা বা ফাঁকা জায়গা থাকে সেখানে আমরা আঙ্গুর চাষ করতে পারি
। কিন্তু শহরাঞ্চলে তেমন কোন জায়গা নেই । তাই আমরা ছাদের উপরে টবে করে আঙ্গুর
চাষ করতে পারি । বর্তমানে শহর অঞ্চলেও বিভিন্ন ধরনের ফলের বা সবজির চাষ করা হচ্ছে
। জায়গার স্বল্পতার কারণে আমরা ছাদের উপর সবজির বাগানও করতে পারি ।
আঙ্গুরের গুনাগুন
আঙ্গুরের অনেক গুনাগুন রয়েছে । আঙ্গুর একটি পুষ্টিকর ও রসালো ফল । এতে
প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি ১, ভিটামিন বি ৬, পটাশিয়াম
এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে । নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে,
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে
।
এছাড়াও আঙ্গুর খেলে আপনার ত্বক ভালো রাখে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে । আঙ্গুরের
পুষ্টি উপাদান আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং মস্তিষ্ক সচল রাখতে সাহায্য করে ।
তাই বুঝতেই পারছেন আঙ্গুরের কতগুলো গুণাগুণ রয়েছে । নিয়মিত আঙ্গুর খেলে আপনার
কতগুলো উপকার হবে আপনি জানেনই না । আঙ্গুরের কার্যকারিতা অনেক বেশি ।
আঙ্গুরের প্রকারভেদ
সকল আঙ্গুরই খেতে সুস্বাদু, রসালো এবং মিষ্টি । আঙ্গুর দুই তিনটা কালারের হয়ে
থাকে । যেমন ধরেন সবুজ কালার, কালো কালার, লাল কালার ইত্যাদি । প্রতিটি আঙ্গুরই
সমান পরিমাণ পুষ্টিগুণে ভরা এবং খেতে সুস্বাদু । তবে অনেকের পছন্দের কালার থাকতে
পারে । যার যে কালারটা পছন্দ সে সেটা খেতে পারেন কোন সমস্যা নেই ।
তবে আমাদের দেশে সাধারণত সবুজ কালারের আঙ্গুরটার জনপ্রিয়তা বেশি । অর্থাৎ এই
কালার আঙ্গুরটা সবাই খেতে বেশ পছন্দ করে । ছোট থেকে বড় বেশিরভাগ মানুষই এই সবুজ
কালার আঙ্গুরটা খেতে পছন্দ করে । তাই আপনি আপনার পছন্দের কালারের আঙ্গুর খেতে
পারেন । সবটাতে পুষ্টিগুণ সমান অনুপাতে রয়েছে ।
আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি
আঙ্গুর হচ্ছে একটি বিদেশি ফল । তারপরেও বাংলাদেশে আঙ্গুর চাষ করা সম্ভব বা
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে আঙ্গুর চাষ করা হচ্ছে । প্রতিটি জিনিস চাষ
করার জন্য যেমন মাটি তৈরি করতে হয়, আগাছা ছাটাই করতে হয়, সার প্রয়োগ
করতে হয়, পোকামাকড় দমন করতে হয়, ঠিক তেমনিভাবে আঙ্গুর চাষ করার জন্য একই
পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে ।
অর্থাৎ আঙ্গুর চাষ করার জন্য প্রথমে আপনাকে জমি তৈরি করতে হবে । তারপর জমিতে সার
প্রয়োগ করতে হবে, আগাছা ছাটাই করতে হবে, পরিচর্যা করতে হবে, পোকামাকড় দমন করতে
হবে । তারপর আপনি আপনার মন মত ফলন পাবেন । সেই আঙ্গুর আপনি খাবেন এবং বেশি
পরিমাণে উৎপাদন হলে বাজারে বিক্রি করতে পারবেন ।
জমি তৈরি ও বীজ বপন
আঙ্গুর চাষ করার জন্য উপযুক্ত জমি প্রথমে নির্বাচন করতে হবে । দো-আঁশযুক্ত
লালমাটি, জৈবিক সার সমৃদ্ধ কাঁকর জাতীয় মাটি এবং পাহাড়ের পাললিক মাটিতে আঙ্গুর
চাষ ভালো হয় । জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে যেখানে পানি দাঁড়িয়ে থাকবে না এবং
প্রচুর সূর্যের আলো পড়বে । এমন জায়গা আঙ্গুর চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে ।
ভালোভাবে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করবেন । তারপর গভীর গর্ত করে তাতে ৪০ কেজি গোবর,
৪০০ গ্রাম পটাশ, ৫০০ গ্রাম ফসফেট এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া গর্তের মাটির সাথে
মিশিয়ে ১০-১৫ দিন রেখে দিতে হবে, যেন সার গুলো ভালোভাবে মাটির সাথে মিশে যায়
।
তারপর সংগৃহীত চারা গোড়ার মাটির বলসহ গর্তে রোপন করে একটি কাঠি গেড়ে সোজা হয়ে
ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে এবং হালকা পানি দিতে হবে । বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
আঙ্গুর চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় মার্চ থেকে এপ্রিল মাস ।
সার প্রয়োগ
আঙ্গুর যেহেতু লাগানো গাছ তাই এর বৃদ্ধির জন্য সময় মত বাড়তি সার প্রয়োগ
করতে হবে । রোপণের এক মাসের মধ্যে গাছ বাড়তি না হলে গোড়ার মাটি আলগা করে তাতে ৫
গ্রাম ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা দরকার । এক থেকে তিন বছরের প্রতিটি গাছে বছরে
১০ কেজি গোবর, ৪০০ গ্রাম পটাশ, ৫০০ গ্রাম ফসফেট এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া
প্রয়োগ করতে হবে ।
পটাশ সার ব্যবহারে আঙ্গুর মিষ্টি হয় এবং রোগবালাইয়ের উপদ্রব কম হয় । গাছ বেড়ে
ওঠার জন্য গাছের গোড়ায় শক্ত কাঠি দিতে হবে এবং মাচার ব্যবস্থা করে দিতে হবে ।
যাতে সে মাচাতে আঙ্গুরের শাখা-প্রশাখা ছড়াতে পারে । এভাবে গাছ আস্তে আস্তে বড়
হতে থাকবে । কারণ আঙ্গুর গাছ নিজে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে না । তাই তাকে মাচার
ব্যবস্থা করে দিতে হয় ।
রোগ বালাই ও পোকামাকড় দমন
আমাদের অর্থাৎ মানুষের যেমন রোগবালাই হয়, ঠিক তেমনি ভাবে গাছের রোগ বালাই হয় ।
অর্থাৎ বিভিন্ন পোকামাকড় গাছকে আক্রান্ত করে এবং ফল নষ্ট করার চেষ্টা করে ।
আঙ্গুর গাছের এরকম বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় দেখা যায় । আঙ্গুর গাছের পাতার
নিচে ছত্রাক জাতীয় পোকা থাকে যেগুলো দমন করার জন্য বিভিন্ন স্প্রে করা হয় ।
শুয়োপোকা পাতা মুড়িয়ে ক্ষতি করলে আক্রান্ত পাতা ও লতার ছাটাই করে ধ্বংস করতে
হবে এবং আক্রান্ত বেশি হলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। আর একটি পোকা যার
নাম ফ্লি বিটল । এরা পাতা ছিদ্র করে খায় । জৈবিক দমনের জন্য শিকারি পোকা
উপকারী ভূমিকা পালন করতে পারে । এছাড়া প্রয়োজনে নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহার
করতে পারেন ।
গাছের কাণ্ড ছাঁটাই এবং পরিচর্যা
রোপনের পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মাচাই ছড়িয়ে থাকা আঙ্গুর গাছের কান্ড
ছাটাই করতে হবে । অধিকাংশ খামারির প্রশ্ন আছে ফুল হয় কিন্তু ফল হয় না ?
এর কারণ কি ? কাণ্ড ছাটাই এর মাধ্যমে গাছের ফলন বৃদ্ধি হয় এবং ফুল ধরে, পরে ফল
হয় । ছাটায়ের সাতদিন আগে এবং পরে গোড়ায় হালকা ছেঁচ দিতে হয় । গাছ রোপনের
পর মাচায় ওঠা পর্যন্ত প্রধান কান্ড ছাড়া অন্য সকল পাশের শাখা ভেঙে ফেলতে হবে
।
প্রথম ছাটাইঃ মাচায় কাণ্ড ওঠার ৩৫/৪৫ সেন্টিমিটার পর প্রধান কান্ডের শীর্ষদেশ
কেটে দিতে হবে । যাতে ওই কান্ডের দুই দিক থেকে দুটি করে চারটি শাখা গজায় ।
দ্বিতীয় ছাটাইঃ গজানো চারটি শাখা বড় হয়ে ১৫ থেকে ২০ দিনের মাথায় ৪৫/৬০
সেন্টিমিটার লম্বা হবে । তখন ৪ টি শীর্ষ দেশ কেটে দিতে হবে । যেখান থেকে আরও
পূর্বের ন্যায় দুটি করে ১৬ টি প্রশাখা গজাবে ।
তৃতীয় ছাটাইঃ এই ১৬ টি প্রশাখা ১৫/২০ দিনের মাথায় ৪৫/৬০ সেন্টিমিটার লম্বা হবে
। তখন আবার এদের শীর্ষদেশ কেটে দিতে হবে । যাতে প্রতিটি প্রশাখা তে
দুদিকে দুটি করে চারটি নতুন শাখা এবং এমনিভাবে ১৬ টি শাখা থেকে সর্ব মোট ৬৪ টি
শাখা গজাবে । এই শাখার গিরার মধ্যেই প্রথমে ফুল এবং পরে এই ফুল মটর দানার মত আকার
ধারণ করে ।
তারপর আঙ্গুর ফলে রূপান্তরিত হবে । প্রথম বছর ফল পাবার পর শাখা গুলোতে ১৫-২০
সেন্টিমিটার লম্বা রেখে ফেব্রুয়ারি মাসে ছেঁটে দিতে হবে । ফলে বসন্তের
প্রাক্কালে নতুন নতুন শাখা গজাবে এবং ফুল ধরবে । এই পদ্ধতি তিন চার বছর পর্যন্ত
চলবে এবং ফলের স্থিতি লাভ করবে ।
ফলন ও ফল সংগ্রহ
যখন ফল ধরা শুরু করবে, তখন ফল সংগ্রহ করা শুরু করতে হবে । অর্থাৎ প্রথমে ফুল ধরে,
তারপর ফল ধরবে । ফলটি পাকবে তারপর ফলটা সংগ্রহ করা শুরু করতে হবে । বেশি পাকার
আগেই ফল সংগ্রহ করতে হবে । সাধারণত শীতের শেষে আঙ্গুর ফল ধরতে শুরু করে । তারপর
থেকেই ফল পাকলে আপনি ফল সংগ্রহ করতে পারবেন ।
তাই বুঝতেই পারছেন আপনাকে কিভাবে ফল সংগ্রহ করতে হবে । প্রতিটি ফল সংগ্রহ
করার প্রায় একই নিয়ম । অর্থাৎ প্রথমে গাছ লাগাবেন । নির্দিষ্ট সময় পর ফুল ধরবে ।
তারপর ফুল থেকে ফল ধরবে । তারপর সেই ফল নির্দিষ্ট সময় পর পাকবে । তারপর
আপনি সেই ফলটি সংগ্রহ করতে পারবেন ।
টবে আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি
তবে আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি অর্থাৎ যাদের আঙ্গুর চাষ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জমি
নেই, তারা টপে করে আঙ্গুর চাষ করতে পারেন । আমাদের গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন খোলা
জায়গায় রয়েছে । আবার অনেকের বিঘা বিঘা জমি রয়েছে । সেখানে তারা অনায়াসে
আঙ্গুর চাষ করতে পারেন । কিন্তু শহরাঞ্চলে যেহেতু আমাদের আঙ্গুর চাষ করার মতো
জায়গা নেই, সেহেতু আমরা চাইলে ছাদের উপরে আঙ্গুর চাষ করতে পারি ।
বড় বালটিতে বা টবে প্রথমে মাটি ভর্তি করে নিতে হবে । তারপর তার মধ্যে পরিমাণ মতো
সার দিতে হবে । তারপর আঙ্গুর গাছের বীজ বপন করতে হবে । এরপর নিয়ম অনুযায়ী সার
দিতে হবে, ডাল ছাটাই করতে হবে, পোকামাকড়ের জন্য কীটনাশক দিতে হবে । তবে একটি গাছ
বড় হয়ে উঠবে । তারপর এতে ফল ধরবে এবং সময় হলে আপনি ফল সংগ্রহ করবেন । তাই
আপনার জায়গা না থাকলে আপনি এই নিয়ম অনুযায়ী টবে বা বালতিতে আঙ্গুর চাষ করতে
পারেন ।
আঙ্গুর খাওয়ায় সতর্কতা
আঙ্গুর খুবই সুস্বাদু এবং রসালো একটি ফল । এতে বিভিন্ন প্রকারের ভিটামিন,
পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি রয়েছে । তাই এটি আমাদের শরীরের জন্য খুবই
উপকারী ফল । আমরা এ সকল উপকারিতা পাওয়ার জন্য নিয়মিত আঙ্গুর ফল খেতে পারি । এটি
ছোট বড় সবার জন্য খুবই কার্যকরী ।
তবে খেয়াল রাখতে হবে মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া যাবে না । আঙ্গুর ফল একটু গরম ধরনের
হয়ে থাকে । অর্থাৎ আপনি যদি অতিরিক্ত আঙ্গুর খান তাহলে পেট খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা
থাকতে পারে । আপনি গ্রীষ্মকালে যদি আঙ্গুর বেশি খান তাহলে আপনার পেট খারাপ
হতে পারে । কারণ এমনিতেই গরমকাল, তারপর আঙ্গুরও গরম । তাই আঙ্গুর খাওয়াই
সতর্ক থাকা ভালো ।
শেষ কথা
আঙ্গুর খুবই সুস্বাদু এবং রসালো ও টক মিষ্টি জাতীয় ফল । অর্থাৎ বেশিরভাগ আঙ্গুরই
মিষ্টি হয়ে থাকে । তবে কিছু কিছু আঙ্গুর খেতে টক স্বাদের হয় । আমরা
মিষ্টি জাতীয় আঙ্গুর খেতে বেশি পছন্দ করি । এটি চাষ করাও অনেকটাই সহজ । যদি আপনি
অল্প জায়গায় চাষ করেন, তাহলে আপনার ক্ষেত্রে সহজ । কিন্তু যদি বেশি
জায়গা জুড়ে চাষ করেন, সেক্ষেত্রে পরিশ্রম একটু বেশি হবে ।
আপনি যদি পরিমাণ মত খান, তাহলে আপনার কোন সমস্যা হবে না । আর যদি অতিরিক্ত খেয়ে
ফেলেন তাহলে দেখা যাচ্ছে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে । তাই আমাদেরকে পরিমাণ
মতো আঙ্গুর ফল খেতে হবে । আর্টিকেলটা কেমন হয়েছে কমেন্টে জানাবেন । কোন ভুল
ত্রুটি হলে মাফ করবেন । সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন । সবাইকে অনেক
ধন্যবাদ ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url