আলু খেলে কি মোটা হয় জেনে নিন ?

আলু খাওয়ার গোপন রহস্য জেনে নিন ? 

 

আলু আমাদের সবচেয়ে প্রিয় সবজি । এটি এমন একটি সবজি, যা আমরা প্রতিটি সবজির সাথে মিশিয়ে রান্না করে খেতে পারি । আলু মাছ, মাংস, সবকিছুর সাথে রান্না করে খাওয়া যায় । এর পুষ্টিগুণও  অনেক এবং খেতেও অনেক সুস্বাদু । 

আমরা বলতে গেলে প্রায় প্রতিদিন কোন না কোন সবজির সাথে বা মাছ-মাংসের সাথে আলু রান্না করে খায় । এই আলুতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ৬, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, খনিজ ইত্যাদি । আলু খেলে কি সত্যিই ওজন বাড়ে ?  চলুন আজ এই নিয়ে আমরা আলোচনা করব ।

পেজ সূচিপত্রঃ আলু সম্পর্কে আজ আমরা যা নিয়ে আলোচনা করব তা হল 

 আলু কি ? 

আলু হচ্ছে এক প্রকার সবজি । আমাদের সবজির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পছন্দের সবজি হচ্ছে আলু । বলতে পারেন ভাতের পরে প্রধান খাবার হচ্ছে আলু । আমরা বিভিন্নভাবে আলু খায় । ভাজি করে খায়, রান্না করে খায়, মাছ মাংস দিয়ে খায়, বিভিন্নভাবে খাওয়া যায় । এটি আমরা ভাত, রুটি সবকিছু দিয়ে খাওয়া যায় । বুঝতেই পারছেন আলুর জনপ্রিয়তা কত বেশি । 

আলু নানা পুষ্টিগুনে ভরা । তাই এ সকল পুষ্টির উপাদান পেতে এবং আমাদের শরীরে ভিটামিনের অভাব দূর করতে আমরা নিয়মিত আলু খেতে পারি । আলু ছোট বড় সবাই খেতে পারে । বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা যখন খাওয়া শিখে, তখন ভাতের সঙ্গে প্রথমে তাদেরকে আলু সিদ্ধ করে খাওয়ানো হয় । বলতে গেলে আমাদের প্রথম খাদ্যই হয় ভাতের সঙ্গে আলু ।

আলু সবজির রাজা 

আলুকে বলা হয় সবজির রাজা । কারণ আলু ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না । প্রায় প্রতিটি তরকারিতেই আলুর প্রয়োজন হয় । মোট কথা আমাদের প্রতিদিনই খাদ্য তালিকায় আলুর সবজি বা অন্য কোন না কোন সবজির মধ্যে থাকেই । তারপরেও আলু নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক রয়েছে  । আলুকে খারাপ ভাবার কোন কারণ নেই ।

বরং এই সবজি খেলে একাধিক জটিল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে সক্ষম । এছাড়া আলো খুবই সহজপাচ্য  খাবার । অর্থাৎ এই খাবার খেলে পেটের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম । আবার হার্ট সুস্থ রাখার কাজেও কিন্তু আলু বেশ কাজ করে । তাই এর সবজি নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার কোন দরকার নেই । ক্যান্সারের মতো রোগ প্রতিরোধ করাও সম্ভব এই আলু খেলে । 

আলু পুষ্টিগুণে ভরা 

আলু বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরা একটি সবজি । এই সবজি খেলে আমরা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ পেতে পারি । আলুতে রয়েছে ভিটামিন সি যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে । আরো রয়েছে ভিটামিন ই, ভিটামিন বি ৬, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি । যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী । তাই এসব উপকারিতা পাওয়ার জন্য আমাদেরকে নিয়মিত আলু খেতে হবে ।


আলু বিভিন্নভাবে খেতে পারি । যেমন ভাজি করে খেতে পারি । ঝোল তরকারি রান্না করে খেতে পারি । মাছ মাংস দিয়ে খেতে পারি । তাই আমাদের যখন যেভাবে আলুর সবজি প্রয়োজন আমরা সেভাবে রান্না করে খেতে পারি । এতে করে আমরা বিভিন্নভাবে উপকৃত হব । আলুর সবজি খাওয়া নিয়ে কোন ভয় নেই । আপনি নিশ্চিন্তে আলুর সবজি খেতে পারেন । 

আলুর প্রকারভেদ 

আলু দুই প্রকারের হয়ে থাকে । একটি আমরা সবজি হিসেবে মাছ মাংস বা তরকারি রান্না করে খেয়ে থাকি । আরেকটি আলু রয়েছে যার নাম হচ্ছে মিষ্টি আলু । এই আলুটা আমরা সিদ্ধ করে বা আগুনে পুড়িয়ে খেয়ে থাকি । এই মিষ্টি আলুটা খেতে অনেক মিষ্টি । তাই এর নাম হচ্ছে মিষ্টি আলু । এই আলু  খেতে অনেক মজা লাগে । তাই দুই আলু দুইভাবে খেতে হয় ।

দুইটা আলু খেতে অনেক মজা এবং পুষ্টিগুনে ভরা । তাই এ সকল পুষ্টিগুণ পাওয়ার জন্য আমরা দুই ধরনের আলু খেতে পারি বা খেতে পারবো । তাই আপনার যেটা পছন্দ বা দুটাই ইচ্ছা করলে আপনি খেতে পারেন । এতে আপনার শরীরে কোন সমস্যা দেখা দিবে না । বরঞ্চ আলু খেলে আপনার শরীরে বিভিন্ন রোগ বালাই দূর হয়ে যাবে ।

আলুর বিভিন্ন রান্না 

আলু আমরা বিভিন্নভাবে রান্না করে খেয়ে থাকি । যেমন ঃ 

আলু ভর্তাঃ আলু কে প্রথমে সিদ্ধ করে নিতে হবে । তারপর সেই সিদ্ধ আলু তে পিয়াজ, মরিচ, লবণ এবং সরিষার তেল দিয়ে ভর্তা করে খেয়ে থাকি । এটি খেতে অনেক মজা । 

আলু ভাজিঃ  আলু চিকন চিকন করে কেটে তেলে ফেলে পিয়াজ, মরিচ, লবণ,  হলুদের গুঁড়া দিয়ে ভাজি করে, এটি রুটি বা ভাত দুটা দিয়েই খাওয়া যায় ।

মাছ মাংস দিয়েঃ আলু মাছ বা মাংস দুইটা দিয়েই রান্না করে খাওয়া যায় । মাছ মাংসের আলু খেতে অনেক ভালো লাগে । 

অন্যান্য সবজিঃ  অন্যান্য সবজির সঙ্গেও আলু দিয়ে ঝোল তরকারি রান্না করে খেতে অনেক মজা লাগে। আলু প্রতিটা সবজির সঙ্গে রান্না করা যায় । যেমন বেগুন, টমেটো, করলা, পটল, ঝিঙ্গা প্রায় প্রতিটি সবজি সঙ্গে রান্না করা যায় । 

বিরিয়ানি আলুঃ বিরিয়ানির সঙ্গে রান্না করা যাই । বিরিয়ানির আলু খেতে ভালোই লাগে । মোটামুটি গরু,  খাসি, মুরগি, প্রতিটি বিরিয়ানিতে আলু দেওয়া যায় । 

আলু খেলে কি ওজন বাড়ে ? 

আসলে আলুতে রয়েছে অনেকটা পরিমাণে ক্যালরি ও কার্বো । এই দুই উপাদান কিন্তু ওজন বাড়াতে পারে । তাই আলু খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থেকে যায় । এমনকি বাড়তে পারে ভুঁড়ির বহরও । তবে এর একটা উল্টো দিক রয়েছে । গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে আলু কিন্তু অনেকটা সময় পেট ভরে রাখতে সাহায্য করে । তাই আলু খেলে সহজে খিদে পায় না ।


তাই সেই দিক থেকে দেখতে গেলে আলু ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে । তবে এই উপকার পেতে গেলে কতটা পরিমাণে আলু খাচ্ছেন সেই দিকে নজর রাখতে হবে । বুঝতেই পারছেন আপনি আলু যদি বেশি পরিমাণে খান, তাহলে দেখা যাচ্ছে ওজন বাড়তে পারে । কিন্তু যদি আপনি পরিমাণ মতো খান তাহলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না । 

আলু খেলে কি গ্যাস হয় ? 

আলু খেলে কি গ্যাস হয় ? এরকম বিভিন্ন ধরনের তর্ক বিতর্ক রয়েছে । কিন্তু না আলু খেলে গ্যাস হয় না ।  তবে যাদের আগে থেকে গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, তাদের আলু খেলে দেখা যাচ্ছে কিছুটা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে । যাদের গ্যাসের সমস্যা থাকে, তারা যাই খাক না কেন গ্যাসের সমস্যা হয় । তাই এ সকল মানুষ যদি আলু খায় তাহলে তাদের গ্যাসের সমস্যা হতে পারে ।

কিন্তু সুস্থ স্বাভাবিক একটি মানুষ যদি আলু খায়, তাহলে তার গ্যাসের কোন ভয় থাকে না । কারণ একটি ছোট শিশু বাচ্চা যখন প্রথম ভাত খাওয়া শিখে, তখন তাকে আলু সিদ্ধ করে ভাতের সঙ্গে মাখিয়ে খাওয়ানো হয় । যদি গ্যাসের সমস্যাই থাকতো তাহলে ছোট বাচ্চাদের কে আলু খেতে দেওয়া হতো না । প্রথম সবজি থাকে ভাতের সঙ্গে আলু এবং পাতলা করে ডাল রান্না করা । 

আলু খাওয়া কি একেবারে নিষেধ ? 

না, আপনি আপনার ইচ্ছা মত আলু খেতে পারেন । আলু বন্ধ করার কোন মানেই হয় না । বরং আলু খেতে হবে হিসাব মতো করে । এক্ষেত্রে দিনে ৫০ গ্রামের মতো আলু খেলে তেমন কোন সমস্যা হবে না । ওজন বাড়ার আশঙ্কাও আর থাকবে না । তাই দিনে দুই থেকে তিন পিস ছোট আলুর টুকরো আপনি খেতে পারেন । 

এমনকি যারা ওয়েট লস করতে চাচ্ছেন, তারাও এই পরিমাণ আলু খেতে পারেন । তাতে করে আপনার কোন সমস্যা হবে না বা ওজন বাড়বে না । তাই আপনি আপনার প্রয়োজন মত বা পরিমাণ মতো আলু প্রতিদিন খেতে পারেন । এতে করে আপনার কোন ক্ষতি হবে না । 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কি ক্ষতিকর ? 

আলুতে রয়েছে স্টাচ । যা সুগার বা ডায়াবেটিস বাড়াতে পারে বা ওজন বাড়াতে পারে । তবে কম পরিমাণে খেলে এর থেকে তেমন একটা সমস্যার আশঙ্কা নেই বলেই চলে । তাই ডায়াবেটিস থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ মতে দুই থেকে তিন পিস আলু খেতে পারেন । তবে এক্ষেত্রে আলুর খোসা না ছাড়িয়ে খেলে বেশি উপকার পাবেন ।


খোসা সিদ্ধ আলু খেলে ডায়াবেটিস বা সুগার এবং ওজন দুটায় বাড়ার আশঙ্কা থাকে কম । তাই বুঝতেই পারছেন আপনার ডায়াবেটিস থাকা সত্ত্বেও, আপনি যদি নিয়মমত আলু খান তাহলে আপনার কোন সমস্যা বা ক্ষতি হবে না । যেভাবে বলা আছে সেভাবে যদি খান তাহলে কোন ক্ষতি হবে না । আপনি সমপরিমাণ আলু প্রতিদিন খেতে পারেন । 

আলু সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিবো ? 

সমাজের প্রচলিত ধারণা রয়েছে আলু সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিলে এর গুণ বৃদ্ধি পায় । এমনকি এভাবে খেলে নাকি ওজন বা সুগার বাড়ার আশঙ্কাও থাকে না ।  এই সম্পর্কে কোন গবেষণাতে কিছু জানা যায়নি । তাই যারা এভাবে আলু খেয়ে ভাবছেন সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন তারা ভুল করছেন । সে ক্ষেত্রে আপনি যেভাবে রান্না করে খান সেভাবেই খেতে পারেন । 

আলু সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিলে যে সব সমস্যা চলে যাবে সেটি নয় । এগুলো মানুষের মুখে প্রচলিত কথাবার্তা । আলু সিদ্ধ করলেই যে তার সকল খারাপ গুণ পানির সাথে বেরিয়ে আসবে এগুলো ভুল ধারণা । তাই কোন কিছু সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে শুনে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয় । এগুলো সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানতে হবে তারপর সিদ্ধান্ত নিবেন । 

শেষ কথা 

আলু বিভিন্ন স্বাদে গুনে ভরা একটি সবজি । এটি আমরা খেতে খুব পছন্দ করি । যদিও মুশকিল হলো এই স্বাদের আলু নিয়েই নানা উল্টাপাল্টা ধারণা বাজারে চালু রয়েছে । এমনকি একাধিক দোষে আলুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় । যেমন অনেকেই বলে থাকেন যে আলু খেলে নাকি ওজন বাড়ে ? আর সেই ভয়েই অনেকেই আলু খাওয়া ছেড়ে দেন ।

সুতরাং সবকিছু না জেনে যাচাই বাছাই না করে কোন কিছু বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয় । কোন কিছু সম্পর্কে আগে জানতে হবে । তারপর খাবেন কিনা সেটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে । আর্টিকেলটা কেমন হয়েছে কমেন্টে জানাবেন । কোন ভুল ত্রুটি হলে মাফ করবেন । সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন । সবাইকে অনেক ধন্যবাদ । 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url